পোস্টগুলি

কবিতা লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আমি-ই সব্যসাচী

আমি-ই সব্যসাচী… মৃত্যুর আগে মরবো না আমি, তুমি নিশ্চিন্তে থাকো হে পৃথিবী। সবুজের মধ্যে বর্ষার জলে চোখ ভেঁজাবো; তারপর, ধূলো-বালির প্রতিবাদী নগরীতে বাতাসে এই নি:শ্বাসের স্প...

সত্যবদ্ধ অভিমান সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

সত্যবদ্ধ অভিমান এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ আমি কি এ হাতে কোনো পাপ করতে পারি ? শেষ বিকেলের সেই ঝুল বারান্দায় তার মুখে পড়েছিল দুর্দান্ত সাহসী এক আলো যেন এক টেলিগ্রাম, মুহূ...

তুমি হাসবে বলে,

ছবি
  তুমি হাসবে বলে, আকাশ কিছু মেঘ পাঠিয়ে দিলো তোমাকে ছায়াতলে রাখতে, যেন তোমার ঠোঁটের সুষ্মিত হাসিটুকু শুকিয়ে না যায়। তুমি হাসবে বলে, ক্রন্দনরত ছোট্ট শিশুটিও কান্না থামালো, উচ্ছ্বল ঝর্ণার মত তোমার হাসির শব্দটুকু যেন তার আর্ত কান্নায় ঢাকা পড়ে না যায়! তুমি হাসবে বলে, মেঘমেদুর আকাশটা থামিয়ে দিলো, ক্ষণে ক্ষণে চমকানো অশনির তীক্ষ্ণ রশ্মিছটা, যেন তোমার হাসির দ্যুতিটুকু হারিয়ে না যায়। তুমি হাসবে বলে, একাদশীর চাঁদটাও মেঘের আড়ালে চলে গেলো। তার সোনামাখা মুখটাকে মেঘে মেঘে ঢেকে- যেন তোমার হাসির আভাটুকু ম্লান হয়ে না যায়। এত কিছুর পরেও তুমি হাসলেনা, তাই মেঘগুলো ঝরে ঝরে বৃষ্টি হয়ে এলো, শিশুর কান্নার সাথে সাথে অশনি চমকালো, লাজুক একাদশী চাঁদটাও একেবারে ডুবে গেলো!

আত্মহত্যার অস্ত্রাবলি

ছবি
সজীব আত্মহত্যার অস্ত্রাবলি স্লিপিং টেবলেট খেয়ে অনায়াসে ম’রে যেতে পারি বক্ষে ঢোকানো যায় ঝকঝকে উজ্জ্বল তরবারি কপাল লক্ষ্য ক’রে টানা যায় অব্যর্থ ট্রিগার ছুঁয়ে ফেলা যায় প্রাণবাণ বৈদ্যুতিক তার ছাদ থেকে লাফ দেয়া যায় ধরা যায় ভোরবেলাকার রেলগাড়ি অজস্র অস্ত্র আছে যে-কোনো একটি দিয়ে আত্মহত্যা ক’রে যেতে পারি এবং রয়েছো তুমি সবচেয়ে বিষাক্ত অস্ত্র প্রিয়তমা মৃত্যুর ভগিনী তোমাকে ছুঁলে দেখলে এমনকি তোমার নাম শুনলে আমার ভেতরে লক্ষ লক্ষ আমি আত্মহত্যা করি।

রান্নাঘরে নারীবাদী

ছবি
সজীব রান্নাঘরে নারীবাদী তুমি এসেছিলে লিসবন আর আমি দূর ঢাকা থেকে; দেখা হয়েছিলো গ্রান্টস হাউজের উষ্ণ রান্নাঘরে; রাঁধছিলে তুমি পোর্ক ও পোটটো; আমার শুঁটকি রান্না দেখে চেয়ে রয়েছিলে দুই নীল চোখ বিষ্ময়ে পুরো ভ'রে। 'হাই', হেসে বলেছিলে,'কোথা থেকে যেনো তুমি?' 'বাঙলাদেশ; আর 'তুমি?'-বলেছিলে, 'আমি পর্তুগাল।' -'বাঙলাদেশ?' চিনতে পারো নি;-সাগর না মরুভূমি; লজ্জা তোমার গন্ডদেশকে ক'রে তুলেছিলো আরো লাল। তারপর আমরা অনেক রেঁধেছি;বুঝেছি রান্নায়ও আছে সুখ। তুমি খুব সুখে খেয়েছো শুঁটকি, ভর্তা, বিরিয়ানি, মাছ, ভাত, আমিও খেয়েছি পোর্ক ও পোটেটো; স্বাদে ভ'রে গেছে মুখ; কথা ব'লে ব'লে বুঝতে পারি নি গভীর হয়েছে রাত। ''নারীবাদী আমি', বলেছিলে. 'খুবই ঘৃণা করি প্রেম আর বিয়ে, প্রেম বাজে কথা; বিয়ে? ওহ গশ! খুবই নোংরা কাজ।' 'প্রেম বেশ লাগে', বলেছি আস্তে, 'কখনো বিবাহ নিয়ে ভাবি নি যদিও; মনে হয় বিবাহের কোনো দরকার নেই আজ।' চুমো খেতে খেতে ঘুমিয়েছি আমরা; বহু রাত গেছে সুখে, আমাদের দেহে বেজেছে অর্গ্যান, ব্যাগপাইপ রাশিরাশি; একরাতে...

দোতলার ল্যন্ডিং মুখোমুখি ফ্ল্যাট। একজন সিঁড়িতে, একজন দরোজায়

ছবি
সজীব দোতলার ল্যন্ডিং মুখোমুখি ফ্ল্যাট। একজন সিঁড়িতে, একজন দরোজায়   : আপনারা যাচ্ছেন বুঝি? : চ’লে যাচ্ছি, মালপত্র উঠে গেছে সব। : বছর দু’য়েক হ’লো, তাই নয়? : তারো বেশি। আপনার ডাকনাম শানু, ভালো নাম? : শাহানা, আপনার? : মাবু। : জানি। : মাহবুব হোসেন। আপনি খুব ভালো সেলাই জানেন। : কে বলেছে। আপনার তো অনার্স ফাইনাল, তাই নয়? : এবার ফাইনাল : ফিজিক্স-এ অনার্স। : কি আশ্বর্য। আপনি কেন ছাড়লেন হঠাৎ? : মা চান না। মানে ছেলেদের সঙ্গে ব’সে… : সে যাক গে, পা সেরেছে? : কি ক’রে জানলেন? : এই আর কি। সেরে গেছে? : ও কিছু না, প্যাসেজটা পিছল ছিলো মানে… : সত্যি নয়। উঁচু থেকে পড়ে গিয়ে… : ধ্যাৎ। খাবার টেবিলে রোজ মাকে অতো জ্বালানো কি ভালো? : মা বলেছে? : শুনতে পাই? বছর দুয়েক হ’লো, তাই নয়? : তারো বেশি। আপনার টবের গাছে ফুল এসেছে? : নেবেন? না থাক। রিকসা এলো, মা এলেন, যাই। : যাই। আপনি সন্ধেবেলা ওভাবে পড়বেন না, চোখ যাবে, যাই। : হলুদ শার্টের মাঝখানে বোতাম নেই, লাগিয়ে নেবেন, যাই। : যান, আপনার মা আসছেন। মা ডাকছেন, যাই। ============================================ ৯ প্রেম হুমায়ুন আজাদ আমরা বিশ্বাস করি না আমাদের? ...

প্রশ্ন

ছবি
সজীব প্রশ্ন চোখ ভরে যে দেখতে চাও রঞ্জন রশ্মিটা চেনো তো? বুক ভরে যে শ্বাস নিতে চাও জানো তো অক্সিজেনের পরিমাণটা কত? এত যে কাছে আসতে চাও কতটুকু সংযম আছে তোমার? এত যে ভালোবাসতে চাও তার কতটুকু উত্তাপ সইতে পারবে তুমি?

আকাঙ্খা

ছবি
Junayed আকাঙ্খা আবুল হাসান তুমি কি আমার আকাশ হবে? মেঘ হয়ে যাকে সাজাব আমার মনের মত করে । তুমি কি আমার নদী হবে? যার নিবিড় আলিঙ্গনে ধন্য হয়ে তরী বেশে ভেসে যাব কোন অজানা গন্তব্যের পথে । তুমি কি আমার জোছনা হবে? যার মায়াজালে বিভোর হয়ে নিজেকে সঁপে দেব সকল বাস্তবতা ভুলে । তুমি কি আমার কবর হবে? যেখানে শান্তির শীতল বাতাসে বয়ে যাবে আমার চিরনিদ্রার অফুরন্ত প্রহর । ============================================

প্রেমিকের প্রতিদন্দ্বী

ছবি
Junayed প্রেমিকের প্রতিদন্দ্বী আবুল হাসান ‘অতবড় চোখ নিয়ে, অতবড় খোঁপা নিয়ে অতবড় দীর্ঘশ্বাস বুকের নিশ্বাস নিয়ে যত তুমি খুলে দাও কোমরের কোমল সারস যত তুমি খুলে দাও ঘরের পাহারা যত আনো ও- আঙুলে অবৈধ ইশারা যত না জাগাও তুমি ফুলের সুরভি আঁচলে আলগা করো কোমলতা, অন্ধকার মাটি থেকে মৌনতার ময়ুর নাচাও কোনো আমি ফিরবো না আর, আমি কোনো দিন কারো প্রেমিক হবে না; প্রেমিকের প্রতিদ্ধন্দ্বি চাই আজ আমি সব প্রেমিকের প্রতিদ্বন্দ্বী হবো। ============================================

অভিশাপ

ছবি
অভিশাপ কাজী নজরুল ইসলাম যেদিন আমি হারিয়ে যাব, বুঝবে সেদিন বুঝবে, অস্তপারের সন্ধ্যাতারায় আমার খবর পুছবে - বুঝবে সেদিন বুঝবে! ছবি আমার বুকে বেঁধে পাগল হয়ে কেঁদে কেঁদে ফিরবে মরু কানন গিরি, সাগর আকাশ বাতাস চিরি' যেদিন আমায় খুঁজবে - বুঝবে সেদিন বুঝবে! স্বপন ভেঙে নিশুত্ রাতে জাগবে হঠাৎ চমকে, কাহার যেন চেনা-ছোওয়ায় উঠবে ও-বুক ছমকে, - জাগবে হঠাৎ চমকে! ভাববে বুঝি আমিই এসে ব'সনু বুকের কোলটি ঘেঁষে, ধরতে গিয়ে দেখবে যখন শূন্য শয্যা! মিথ্যা স্বপন! বেদনাতে চোখ বুজবে - বুঝবে সেদিন বুঝবে! গাইতে ব'সে কন্ঠ ছিড়ে আসবে যখন কান্না, ব'লবে সবাই - "সেই যে পথিক, তার শেখানো গান না?" আসবে ভেঙে কান্না! প'ড়বে মনে আমার সোহাগ, কন্ঠে তোমার কাঁদবে বেহাগ! প'ড়বে মনে অনেক ফাঁকি অশ্রু-হারা কঠিন আঁখি ঘন ঘন মুছবে - বুঝবে সেদিন বুঝবে! আবার যেদিন শিউলি ফুটে ভ'রবে তোমার অঙ্গন, তুলতে সে-ফুল গাঁথতে মালা কাঁপবে তোমার কঙ্কণ - কাঁদবে কুটীর-অঙ্গন! শিউলি ঢাকা মোর সমাধি প'ড়বে মনে, উঠবে কাঁদি'! বুকের মালা ক'রবে জ্বালা চোখের জলে সেদিন বালা মুখের হাসি ঘুচবে - বুঝবে সেদিন বুঝবে! ===...

অনেক ছিল বলার

ছবি
অনেক ছিল বলার কাজি নজরুল ইসলাম অনেক ছিল বলার, যদি সেদিন ভালোবাসতে। পথ ছিল গো চলার, যদি দু’দিন আগে আসতে। আজকে মহাসাগর-স্রোতে চলেছি দূর পারের পথে ঝরা পাতা হারায় যথা সেই আঁধারে ভাসতে। গহন রাতি ডাকে আমায় এলে তুমি আজকে। কাঁদিয়ে গেলে হায় গো আমার বিদায় বেলার সাঁঝকে। আসতে যদি হে অতিথি ছিল যখন শুকা তিথি ফুটত চাঁপা, সেদিন যদি চৈতালী চাঁদ হাসতে। ============================================